দীপক শর্মা দীপু | মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
কক্সবাজার শহর থেকে নিখোঁজ হওয়া ৫ স্কুল ছাত্রকে ফিরে পেয়েছে তাদের পরিবার। নিখোঁজ হওয়া ৫ স্কুল ছাত্রের মধ্যে ৪ জন স্ব ইচ্ছায় বেড়াতে যায় আর একজন অপহরনের শিকার হয়েছিল। ‘‘রাঙামাটিতে উদ্ধার হওয়ার চার শিক্ষার্থী নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব বলেন, বাড়িতে বললে বেড়াতে যেতে দিবে না; তাই না বলেই রাঙামাটিতে বেড়াতে চলে আসি। শুধু আমরা চারজনই রাঙামাটিতে বেড়াতে আসি। আমাদের সাথে আর কেউ ছিল না।’’ সোমবার দুপুরে নিখোঁজ কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী পার্বত্য রাঙামাটি সদরের রিজার্ভ বাজার এলাকার হোটেল রাজু নামে এক আবাসিক হোটেলে উদ্ধার হওয়ার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো- কক্সবাজার পৌর শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মৌলভী জহির আহমদের ছেলে সাইয়েদ নকীব, বাস টার্মিনাল এলাকার আকতার কামাল চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার কামাল সাকিব, একই এলাকার ফয়েজুল ইসলামের ছেলে শাফিন নূর ইসলাম ও বাজারঘাটা এলাকার অ্যাডভোকেট আব্দুল আমিনের ছেলে এইচএ গালিব উদ্দিন। তারা সবাই কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে এ চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, রোববার সকালে ওই চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট ও স্কুলের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে না আসায় রাতে শহরে মাইকিং করা হয়। পরে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ চার শিক্ষার্থী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সোমবার সকালে থানায় জিডি করেন। তিনি আরও বলেন, এরপর বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই চার শিক্ষার্থী হোটেল রাজুতে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হই। সংখ্যায় তারা চারজন হলেও সাকিব নামে এক শিক্ষার্থীর নামে রুুম বুকিং করা হয়। রাঙামাটি সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ চলছে। রাঙামাটি পুলিশের বরাত দিয়ে ওসি আজম বলেন, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা স্বইচ্ছায় চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি এলাকায় বেড়াতে গেছে। তাদের সঙ্গে ফুটবলসহ খেলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে। নকীবের বাবা জহির আহমদ বলেন, নকীবের সঙ্গে রোববার সর্বশেষ সকাল ১১টায় মোবাইলে কথা হয়। প্রাইভেটের টাকা দেয়ার জন্য ৬০০ টাকাও নিয়েছিল সে। দুপুর ১২টায় স্কুল থাকলেও সে স্কুলে যায়নি বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তার মতো আরও তিন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি এবং রহস্যজনকভাবে তারাও নিখোঁজ থাকে। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম বলেন, রোববার নকীব, সাকিব, শাফিন ও গালিব কেউ স্কুলে আসেনি। বিকেলে তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। রাত অবধি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও না পেয়ে সোমবার সকালে সবাই মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হই। গালিবের বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল আমিন বলেন, বড় ভয়ে ছিলাম। কারণ চারপাশে প্রতিদিন অপহরণসহ নানা ভয়ানক খবরের জন্ম হচ্ছে। এ রকম কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখী হচ্ছি কিনা, এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্নতায় সময় পার করেছি। সবাইকে অক্ষত অবস্থায় এক সঙ্গে রাঙামাটিতে পাওয়া গেছে এটাই শোকরিয়া। এমন ঘটনার মুখোমুখী যেন অন্য অভিভাবককে না হতে হয়, সেজন্য সন্তানদের প্রতি আরও নজর দিতে সব বাবা-মাকে অনুরোধ জানান তিনি। শহরের বাহারছড়াস্থ কবর স্থান পাড়ার বাসিন্দা ইমাদুল হকের ছেলে পৌর প্রিপ্যার্যাটরি উচ্চ ্িবদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র শিহাব উদ্দিনকে ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টার দিকে টেকনাফের হ্নীলায় খুঁজে পাওয়া যায়। নিখোঁজ শিহাবের মামা জালাল হোসের জানান, শিহাব অপহরনের শিকার হয়েছে। শিহাব তাদের জানিয়েছেন, ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার জন্য শহরের জাম্বুর মোড়ে টমটমের জন্য অপেক্ষা করে। এই সময় একটি মাইক্রোবাস তার সামনে এসে দাঁড়ায় । মাইক্রোবাসে থাকা ৩ জন ব্যক্তি তাকে নাম ধরে ডাকে। কাছে গেলে তাকে টেনে গাড়ি তুলে নেয়। গাড়িতে তুলে তার মুখ চেপে ধরে। এর পর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরলেও সে অজ্ঞানের মতো গাড়িতে পড়ে থাকে। ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে যখন অপহরণকারিরা শিহাবকে অজ্ঞান মনে করে খাবার খেতে হ্নীলা বাজারে গাড়ি থেকে নামে। তখন শিহাব সাথে সাথে দৌড় দিয়ে একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। অপহরণকারিরা প্রথমে তার পিছু নেয়ার চেষ্টা করলেও পরে নিজেরা গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে। শিহাব পুরো ঘটনা খুলে বললে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খরব দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হ্নীলা থেকে কক্সবাজারে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। স্কুলের ব্যাগ অপহরণকারিদের গাড়িতে রয়ে গেছে।
শিহাব অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করেন তার মা বাবাসহ স্বজনরা।
Posted ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
dbncox.com | ajker deshbidesh