শুক্রবার ২১শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
পানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায়

মহেশখালীর পানচাষিদের মুখে হাসি

আব্দুল্লাহ আল ফরহাদ   |   বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

মহেশখালীর পানচাষিদের মুখে হাসি

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ পর্যটন জেলা কক্সবাজারের মহেশখালী। এখানকার অধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পেশা পান চাষ। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এর ভূমি পান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। মহেশখালীর পানের বিশেষত্ব হলো তার মিষ্টি স্বাদ, যার কারণে এই পান সারাদেশে বিখ্যাত। এক সময় মহেশখালীর মিষ্টি পান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। এখানকার পানের সুনাম দেশের সীমানা পেরিয়ে এশিয়া মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকাতেও ছড়িয়ে রয়েছে। কারও কারও মতে আফ্রিকা মহাদেশের কিছু কিছু দেশও বাদ যায় না। সমগ্র বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ মিষ্টি পান মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে উৎপাদিত বাংলা, মিঠা, সাচি, কর্পুরী, গ্যাচ, নাতিয়াবাসুত, উজালী, মহানলী, চেরফুলী, ভাবনা, সন্তোষী, জাইলো, ভাওলা, ঝালি প্রভৃতি জাতের মধ্যে মহেশখালীর মিষ্টি পান উল্লেখযোগ্য।
মহেশখালীর পানের বরজ সাধারণত দুই ধরনের পাহাড়ী বরজ এবং বিল বরজ। উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের ঢালু ও সমতল কৃষি জমিতে যুগ যুগ ধরে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় পানচাষিরা। জমির শ্রেণি অনুসারে পাহাড়ী এলাকার ভূমিতে পান চাষ দুই/তিন বছর স্থায়ী হলেও সমতল জমিতে পান চাষ হয় মাত্র ছয় মাস। সমতল জমিতে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে মে/জুনে শেষ হয়।
অপরদিকে পাহাড়ী ঢালু জমিতে পান চাষ হয় বছরের যে কোন সময়। এমনটাই জানান স্থানীয় পানচাষিরা। পান চাষের উপকরণ হলো: ছন, উল, বাঁশ, গোবর দিয়ে তৈরী সার, খৈল ইত্যাদি। ২৯ জানুয়ারী (রবিবার) মহেশখালীর শাপলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়েল মাঠে পান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বরজ থেকে সদ্য ভেঙে আনা থরেথরে পান নিয়ে বসে রয়েছেন অনেক চাষি। কক্সবাজারের চকরিয়া, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, পটিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যপারীরা এসব বাজার থেকে পান সংগ্রহ করে থাকে। তারপর ট্রাকবোঝাই করে পাঠিয়ে দেয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এসব পাইকারি বাজারে পানের বড় পান প্রতি বিরা (৩২০টি পান) বিক্রি হয় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে।
পানচাষীরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় মহেশখালীর মিষ্টি পান চাষিদের মুখে হাসির জোয়ার বইছে। বেশি মুনাফা হওয়ায় মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষিরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মহেশখালীর পানচাষী জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার দুটি পান বরজ রয়েছে। দুটি বরজ থেকে প্রতিসপ্তাহে পান ভেঙ্গে শাপলাপুর স্কুলের মাঠে নিয়ে আসি আর এখানে পাইকারী ব্যপারীদের কাছে বিক্রি করি। আগে বড় পান বিক্রি হতো ১৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকায় আর মাঝারি পান বিক্রি হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। ঠিক সেই পান বর্তমান বিক্রি হচ্ছে বড় পান প্রতি বিরা ৬০০ থেকে ৫০০ টাকা ও মাঝারি পান ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর ছোট ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এবার পানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

Comments

comments

Posted ১:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

dbncox.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

দশ বছর পর
দশ বছর পর

(1556 বার পঠিত)

সেই মা সেই ছবি
সেই মা সেই ছবি

(1176 বার পঠিত)

(1153 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com