শনিবার ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

আফজারা রিয়া   |   শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৪

নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

আসছে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন মানেই বহুমানুষের কায়কারবার।আর এই নির্বাচনকে ঘিরে চলে নানা আলোচনা সমালোচনা। প্রতিবার নির্বাচনের আগে পরে রোহিঙ্গাদেরকে ভোটার করা কিংবা নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বের সর্ববৃহত শরণার্থী শিবির কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে। দুটি উপজেলার ৩৪ টি ক্যাম্পে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে।গত নির্বাচনেও মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে অর্থ ও নানা সুযোগ সুবিধার প্রলোভনে ফেলে ভোটার করা থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রচারণা, সমাবেশ, পোস্টার লাগানোসহ নানা কাজে ব্যবহার করেছে একশ্রেণির জনপ্রতিনিধি। এবারও রোহিঙ্গারা নির্বাচনে ব্যবহার হতে পারেন বলে অনেকের মনেই ভয় কাজ করছে। কারণ তারা নির্বাচনে ব্যবহার হলে বড় কোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি ভোট ব্যাংক বাড়ানোসহ নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে অবৈধভাবে অনেককে ভোটার হতে সহযোগিতা করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জাল/ভুয়া জন্মসনদ ও নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে এবং ভুয়া বাবা-মা হিসেবে প্রক্সি নিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভোটার হওয়ার চেষ্টা চালায়।কিন্তু এমন অভিযোগের সত্যতা মেলেনি কক্সবাজারে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহিন ইমরান বলেছেন নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করার কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।এমন কোনো তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের আশঙ্কা থাকায় এক মাস আগে থেকেই বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে অভিযান ও তল্লাশী চৌকি স্থাপন করেছে তারা। নিরাপত্তার স্বার্থে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইট (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচন বা অন্যকোন কাজে যাতে রোহিঙ্গারা ব্যবহার না হয় সেজন্য তারা ক্যাম্পে সচেতনতা তৈরি করছেন।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজার ৪ আসনের নির্বাচনী প্রার্থীরা বলেছেন,রোহিঙ্গাদের একটি বৃহৎ অংশ থাকে এই দুই উপজেলায়। কিন্তু তাদের প্রচার-প্রচারণায় কিংবা নির্বাচনী কোন কাজে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হয় না। তারা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে কাজ করছেন।

সাধারণ ভোটারদের দাবী নির্বাচনে যেন রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা না থাকে।অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে।তাই তাদেরকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করলে ভোটারদের নিরাপত্তা শঙ্কায়িত হবে।রোহিঙ্গারা যেন কোনরকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাধারণ জনগন।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির ঘটনায় তিন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

এরপর গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর এসব ঘটনায় জড়িত ইসির প্রায় ৩০ কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আত্মীয় পরিচয়ে শনাক্ত করেন স্থানীয়রা। জমা দেন স্থানীয় চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট। জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রকৃত নাগরিকের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চক্রটি চট্টগ্রামে সুবিধা করতে না পেরে ওই এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের ভোটার করেছে।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে জয়নাল আবেদিন নামক একজন ব্যাক্তি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাতে আরও চারজনের নাম উঠে আসে বলে জানা গেছে।
রোহিঙ্গাদের এনআইডি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও ল্যাপটপ গায়েব করার অভিযোগে জয়নালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
২০২২ সালে চট্টগ্রামে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৫ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ২ রোহিঙ্গাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছিলো গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নিরাপত্তা ও নির্দেশনার পরও রোহিঙ্গাদের হাতে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র।সারাদেশে ইসির নানা নিরাপত্তা ও সতর্কতার পরও নিবন্ধিত রোহিঙ্গারাও ভোটার হয়ে যাচ্ছেন।যা নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। এছাড়া সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা।ক্যাম্পগুলোতে খুনোখুনি এখন নৈমিত্তক ঘটনা। তাই রোহিঙ্গারা নির্বাচনে যুক্ত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

Comments

comments

Posted ১:২২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৪

dbncox.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com