রবিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী, জেলাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী, জেলাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার

প্রায় সাড়ে ৫ বছর পর পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। একদিন আগে থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জনসভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। সাড়ে ৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আগমনে নতুন কিছুর আশায় বুক বেঁধেছেন জেলাবাসী। কক্সবাজারের সরকারের ১৪ বছরে কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি উন্নয়ন প্রকপসরকারের ১৪ বছরে কক্সবাজারে বাস্তবায়নাধীন সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রস্তুত গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ।

এছাড়াও বঙ্গবন্ধুকন্যার কাছে কক্সবাজারবাসী আরও কিছু প্রত্যাশা করেন। কক্সবাজার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সংযুক্তিকরণ, কক্সবাজারের সাথে মহেশখালী উপজেলার সংযোগ সেতু ও বাখঁকালী নদীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ, কুতুবদিয়া-মগনামার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুকরণ, কক্সবাজার পর্যটন গবেষনা ইনস্টিটিউট, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ছয় লেনের কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহসড়ক, কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন, কক্সবাজার সিটি কলেজকে সরকারিকরণ, যুগ যুগ ধরে ঝিনুক ব্যবসার সাথে জড়িত উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও স্থায়ী আধুনিক ঝিনুক মার্কেট নির্মাণসহ নানা দাবিতে মুখর স্থানীয়রা।

সর্বস্তরের মানুষের দাবি, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারের রেললাইন সম্প্রসারণ ও কক্সবাজারে ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণ, সাগরের পানি ছুঁয়ে সুপরিসর বিমান ওঠানামার জন্য কক্সবাজার বিমানবন্দরে দেশের দীর্ঘ (১০ হাজার ৭০০ ফুট দৈঘের্যর) রানওয়ে সম্প্রসারণ যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে কক্সবাজারসহ দক্ষিণা লের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রায় উন্নয়ন ঘটেছে। এ উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কক্সবাজারবাসী। এবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের বাকি চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন, এমনই প্রত্যাশা সবার।

আজ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আয়োজিত নৌশক্তি প্রদর্শন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহড়ায় বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ, ২টি বিএন এমপিএ, ৪টি বিএন হেলিকপ্টার অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ওয়েবসাইট অনুসারে, মহড়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়ার জাহাজসহ প্রায় ২৮টি দেশের নৌ-কমান্ডার, যুদ্ধ জাহাজ অংশ নেবেন।
এছাড়া যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, মিশর, নাইজেরিয়া, সুদান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তিমুর-লেস্তে থেকে নৌ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। মহড়ায় ইরান, ওমান, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়াও আজ জেলায় ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। ১ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে ৫৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয় উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। ২৯ প্রকল্প হলো- কক্সবাজার গণপূর্ত উদ্যান, বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ, কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবন, উপজেলা ভূমি অফিস ভবন, পেকুয়া-কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ভবন, শেখ হাসিনা জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, আবদুল মাবুদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন, কক্সবাজার জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, রামু-ফতেখঁারকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ জেলা মহাসড়কের হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পুনঃনির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ, বঁাকখালী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন, সেচ ও ড্রেজিং প্রকল্প (১ম পর্যায়), শাহপরীর দ্বীপে সী ডাইক অংশে বঁাধ পুনঃনির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ, ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারের পুনর্বাসন প্রকল্প, রামু কলঘর বাজার-রাজারকুল ইউপি সড়কে বঁাকখালী নদীর উপর ৩৯৯ মিটার দীর্ঘ সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদূত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী সেতু, কক্সবাজার জেলায় নবনির্মিত ৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, ৪টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন (রামু, টেকনাফ, মহেশখালী ও উখিয়া), কক্সবাজার পৌরসভার এয়ারপোর্ট রোড আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, শহীদ সরণি আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম সড়ক আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, নাজিরারটেক শুঁটকিমহাল সড়ক আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, টেকপাড়া সড়ক আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, সী বিচ রোড আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, মুক্তিযোদ্ধা সরণি আরসিসিকরণ ও অন্যান্য, সৈকত-স্বরণ আবাসিক এলাকা সড়ক আরসিসিকরণ ও অন্যান্য।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে চারটি প্রকল্পের। এগুলো হলো- বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প, কুতুবদিয়া উপজেলার ধুরুং জিসি মিরাখালী সড়কে ধুরুংঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি এবং আকবর বলি ঘাটে ১৫৩ দশমিক ২৫ মিটার জেটি নির্মাণ, মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ঘাটে জেটি নির্মাণ, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফে নাফ নদী বরাবর পোল্ডারসমূহের পুনর্বাসন প্রকল্প। জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তরের তালিকায় আরও প্রকল্প যুক্ত হতে পারে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জনসভায় জেলার ৯ উপজেলা, ৪ পৌরসভাসহ জেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অন্তত ৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শত শত তোরণ নির্মাণ, দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো কক্সবাজার শহর। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারে। শুধু জনসভার মাঠ নয়, লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাহারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, হলিডের মোড়, শহীদ স্মরণী এলাকা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোন হয়ে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত। এজন্য পুরো এলাকাজুড়ে দুই শতাধিক মাইকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো কক্সবাজারকে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও সার্বিকভাবে কাজ করছে।

/টিআর/

Comments

comments

Posted ১২:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২

dbncox.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com